- রফ’উল ইয়াদাইন
- রফ’উল ইয়াদাইন
- হাতের
- কাছে নেকী থাকতে “নেকী’র
- জন্য হুড়াহুড়ি!! বিষয়টি তুচ্ছ হলেও
- আসুন একটু পর্যালোচনা করি।
- লিখেছেন:’শাহরিয়ার’
- বিসমিল্লাহির রহমানির
- রাহিম
- আমরা নেকীর আশায় আজ
- ভুরি ভুরি বিদ’আত কাজ
- করে চলেছি, অথচ
- আমরা সত্যিকারের
- নেকীকে দুরে ঠেলে আজ কতই
- না ক্ষতির স্বীকার হচ্ছি তার
- হিসাব একমাত্র আল্লাহ তা’আলাই
- জানেন। আজ একটা বই পড়লাম
- এবং মহা চিন্তিত হয়ে গেলাম,
- চিন্তা কেন জানেন? আসলেই
- কি আমরা ভুল করছি? না-
- কি পারষ্পারিক হিংসা-
- বিদ্বেষ আর
- ইসলামে দালাদলি নামক
- ফাঁটা বাঁশের
- গ্যাড়াকলে বন্দি হয়ে গেছি?
- পাঠক সমাজের কাছে আমার এই
- মূল্যহীন লেখা কতটুকু
- কাজে দিবে জানিনা,
- তবে আশা রাখি আপনারা যারা
- আমার এই লেখাটুকু বিস্তারিত
- পড়বেন এবং তা থেকে ভাল কিছু
- অর্জন
- করতে পারলে আমাকে দয়া করে
- জানাবেন। আমি বড়ই অশান্তির
- ভিতর আছি।
- আলোচনাটি সংক্ষিপ্ত
- করতে চাইলেও উপায় খুঁজে পেলাম
- না কারন এটি এমন একটি বিষয়
- যেখানে খুঁটি-নাটি উল্লেখ
- না করলে আপনারাই আমাকে ভুল
- বুঝে নানা রকম মন্তব্য করে বসবেন
- তখন আবার মন্তব্যের উত্তর
- দিতে গিয়ে গলধঘর্ম হতে হবে।
- তার চেয়ে বরং একবারেই একটু
- কষ্ট করে পড়ে নিয়েন।
- এখানে আপনাদের
- যুক্তি এবং দলিলের
- পর্যালোচনা করেছি যা
- আপনাদের
- কাজে লাগবে এবং বিষয়টি
- বুঝতে সুবিধা হবে।
- দয়া করে কেউ আমাকে ভুল বুঝবেন
- না; এবং এ কথাও বলবেন
- না যে আমি নিজ থেকে যত্তোসব
- আউলা ঝাউলা কথা আপনাদের
- সম্মুখে পেশ করছি।
- আমরা হানাফী মাযহাবের
- অনুসারীগণ
- নামাজে রুকুতে যাওয়ার সময়
- এবং রুকু থেকে ওঠার সময় রফ’উল
- ইয়াদাইন করি না। আলিম সমাজ
- আমাদের মত অধম বান্দাদের
- বলে থাকেন,
- এটি নাবী মুহাম্মাদ (সাঃ) প্রথম
- দিকে করেছেন এবং শেষের
- দিকে বাদ দিয়েছেন অর্থাৎ
- মানসুখ হয়ে গেছে। আমরা সেই
- বিশ্বাসেই আজ রফ’উল ইয়াদাইন
- করি না। যাহা অন্যান্য মাযহাব
- এবং আমাদের
- দেশে আহলে হাদীস
- বা সালাফীগণ করে থাকেন।
- মসজিদের
- হুজুরকে জিজ্ঞেসা করলে বলে,
- দু’ইটাই সুন্নাত। আসুন একটু
- বিস্তারিত আলোচনা করিঃ
- প্রথমেই আমাদের
- হানাফী মাযহাবের শ্রেষ্ঠ
- আলিমগণের মতামত দিয়ে শুরু
- করা যাকঃ১।
- মোল্লা ‘আলী ক্বারী হানাফী (
- রহঃ)
- বলেনঃ সালাতে রুকু’তে যাওয়ার
- সময় ও রুকু’ থেকে উঠার সময় দু’ হাত
- না তোলা সম্পর্কে যেসব হাদীস
- বর্ণিত হয়েছে সেগুলো সবই
- বাতিল হাদীস। তন্মধ্যে একটিও
- সহীহ নয়। (মাওযু’আতে কাবীর,
- পৃ-১১০)
- ২। হানাফী মুহাদ্দিস
- আল্লামা বদরুদ্দীন
- আইনী হানাফী (রহঃ)
- রুকু’তে যাওয়ার পূর্বে রফ’উল
- ইয়াদাইন করার ব্যাপারে ইমাম
- আবূ হানিফা (রহঃ)
- সম্পর্কে লিখেছেনঃ ইমাম আবূ
- হানিফা সূত্রে বর্ণিত
- হয়েছে যে, তা ত্যাগ করলে গুনাহ
- হবে। (’উমদাতুল ক্বারী, ৫/২৭২)
- ৩। শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিস
- দেহলবী হানাফী (রহঃ)
- বলেনঃ যে মুসল্লী রফ’উল ইয়াদাইন
- করে ঐ মুসল্লী আমার কাছে অধিক
- প্রিয় সেই মুসল্লীর
- চাইতে যে রফ’উল ইয়াদাইন
- করে না। কারন রফ’উল ইয়াদাইন
- করার হাদীসগুলো সংখ্যায়
- বেশি এবং অধিকতর মজবুত।
- (হুজ্জাতুল্লাহহিল বালিগাহ
- ২/১০)তিনি আরো বলেন, রফ’উল
- ইয়াদাইন হচ্ছে সম্মান সূচক কর্ম।
- যা মুসল্লীকে আল্লাহর দিকে রুজু
- হওয়ার
- ব্যাপারে এবং সালাতে তন্ময়
- হওয়ার ব্যাপারে হুশিঁয়ার
- করে দেয়। (হুজ্জাতু্ল্লাহিল
- বালিগাহ ২/১০)
- ৪। আল্লামা আবুল হাসান
- সিন্ধী হানাফী (রহঃ)
- বলেনঃ যারা এ কথা বলে যে,
- তাকবীরে তাহরীমাহ
- ছাড়া রুকু’তে যাওয়ার সময়
- এবং রুকু’ থেকে উঠার সময় দু’ হাত
- তোলার হাদীস মানসূখ ও রহিত,
- তাদের ঐ দাবী দলীলবিহীন
- এবং ভিত্তিহীন। (শারহু
- সুনানে ইবনে মাজাহ, মিসরের
- ছাপা ১ম খন্ড ১৪৬ পৃষ্ঠার টিকা)
- ৫। আল্লামা আনোয়ার শাহ
- কাশমিরী হানাফী (রহঃ)
- বলেনঃ এ কথা জানা উচিত যে,
- সালাতে রফ’উল ইয়াদাইন করার
- হাদীস সূত্র ও ‘আমালের দিক
- দিয়ে ****মুতাওয়াতির,
- এতে কোনই সন্দেহ নেই। আর
- এটা মানসূখও নয় এবং এর একটি হরফও
- নাকচ নয়। (নাইলুল ফারকাদাইন, পৃ-
- ২২, রসূলে আকরাম কী নামায, পৃ-৬৯)
- ****মুতাওয়াতিরঃ মুতাওয়াতির
- বলা হয় সেই
- হাদীসকে যেটিকে এতো অধিক
- সংখ্যক
- বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন যে,
- তাদের পক্ষে সাধারণত মিথ্যার
- উপর একত্রিত হওয়া সম্ভব নয়।
- ৬। আল্লামা ‘আবদুল হাই
- লাখনৌভী হানাফী (রহঃ)
- বলেনঃ নাবী (সাঃ)-এর
- সূত্রে রফ’উল ইয়াদাইন করার
- প্রমাণ
- বেশী এবং প্রাধান্যযোগ্য। আর
- এটা মানসূখ বা নাকচ হবার
- দাবী যা ত্বাহাভী, ইবনুল হুমাম
- ও আইনী প্রমূখ আমাদের দলের
- মনীষীদের পক্ষ থেকে প্রচারিত
- হয়েছে, তা এমনই প্রমাণহীন
- যে তদদ্বারা রোগী নিরোগ হয়
- না এবং পিপাসার্তও তৃপ্ত হয় না।
- (আত-তা’লীকুল মুমাজ্জাদ, পৃ-৯১)
- ৭। ইমাম মুহাম্মাদের সাথী ও
- ইমাম আবূ ইউসূফের শিষ্য ইসাম ইবনু
- ইউসূফ আল বালাখী (রহঃ)-এর রফ’উল
- ইয়াদাইন
- করা সম্পর্কে আল্লামা ‘আবদুল হাই
- লাখনৌভী হানাফী (রহঃ)
- বলেনঃ ইসাম ইবনু ইউসূফ ছিলেন
- ইমাম আবূ ইউসূফের শাগরিদ
- এবং হানাফী।
- তিনি রুকু’তে যাওয়ার সময়
- এবং রুকু’ থেকে উঠার সময় রাফ’উল
- ইয়াদাইন করতেন- (আল-
- ফাওয়ায়িদুল বাহিয়্যাহ
- ফী তারাজিমিল হানাফিয়্যাহ,
- পৃ-১১৬)। আবদুল্লাহ ইবনু মুবারক,
- সুফিয়ান সাওরী এবং শু’বাহ
- (রহঃ) বলেন, ইসাম ইবনু ইউসূফ
- মুহাদ্দিস ছিলেন। সেজন্য
- তিনি রফ’উল ইয়াদাইন করতেন।
- (আল-ফাওয়ায়িদুল বাহিয়্যাহ,
- পৃ-১১৬)
- ৮। শায়খ আবূত ত্বালিব
- মাক্কী হানাফী (রহঃ) তার ‘কুতুল
- কুলূব’ গ্রন্থে সালাতের সুন্নাত সমূহ
- বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন,
- রুকু’তে যাওয়ার সময় রফ’উল
- ইয়াদাইন করা ও তাকবীর
- বলা সুন্নাত। তারপর
- ‘সামিআল্লাহুলিমান হামিদাহ’
- বলে রফ’উল ইয়াদাইন করা সুন্নাত।
- (কুতুল কুলূব ৩/১৩৯)
- ৯। কাজী সানাউল্লাহ
- পানিপত্তি হানাফী (রহঃ)
- বলেনঃ বর্তমান সময়ের অধিকাংশ
- ‘আলিমের দৃষ্টিতে রফ’উল ইয়াদাইন
- করা সুন্নাত। অধিকাংশ ফাক্বীহ
- ও মুহাদ্দিসীনে কিরাম
- একে প্রমাণ করেছেন।
- (মালাবুদ্দাহ মিনহু, পৃ-৪২, ৪৪)
- ১০। শায়খ ‘আবদুল ক্বাদির
- জিলানী (রহঃ) সালাতের
- সুন্নাত সমূহের
- বর্ণনা করতে গিয়ে বলেনঃ
- সালাত শুরু করার সময়,
- রুকু’তে যাওয়ার সময় এবং রুকু’
- হতে উঠার সময় রফ’উল ইয়াদাইন
- করা সুন্নাত। (গুনিয়াতুত
- ত্বালিবীন, পৃ-১০)
- ১১। দ্বিতীয় আবূ
- হানিফা নামে খ্যাত
- আল্লামা ইবন নুজাইম (রহঃ)
- বলেনঃ রুকু’তে যাওয়ার সময় ও রুকু’
- থেকে মাথা উঠানোর সময় রফ’উল
- ইয়াদাইন করলে সালাত বরবাদ
- হবার কথা যা মাকহুল
- নাসাফী ইমাম আবূ
- হানিফা থেকে বর্ণনা করেছেন
- তা বিরল বর্ণনা, যা রিওয়ায়াত
- ও দিরায়াত উভয়েরই
- পরিপন্থী অর্থাৎ সূত্রতঃ ও জ্ঞানত”
- ঠিক নয়। (রাহরু রায়িক ১/৩১৫,
- যাহরাতু রিয়অযুল আবরার, পৃ-৮৯)
- ১২। দেওবন্দের শায়খুল হিন্দ
- মাওলানা মাহমূদুল হাসান
- বলেনঃ রফ’উল ইয়াদাইন মানসূখ নয়।
- আর এর স্থায়িত্ব প্রমাণিত নয়-
- (ইযাহুল আদিল্লাহ)।
- ইতিপূর্বে ইমাম
- যায়লায়ী হানাফীর বরাত
- দিয়ে প্রমাণ করা হয়েছে যে, এর
- স্থায়িত্ব প্রমাণিত।
- কেননা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) মৃত্যু
- পর্যন্ত আজীবন রাফ’উল ইয়াদাইন
- করেছিলেন। (নাসবুর রায়াহ
- তাখরীজ আহাদীসিল
- হিদায়া ১/৪১০)
- ১৩। মুফতী আমিমুল ইহসান
- লিখেছেনঃ যারা রফ’উল
- ইয়াদাইন করার হাদীস মানসূখ-
- আমি বলি, তাদের একটি মাত্র
- দলীল (অর্থাঃ ইবনু মাস’উদের
- হাদীস), দ্বিতীয় কোন দলীল
- নাই। (ফিকহুস সুনার ওয়াল আসার,
- পৃ-৫৫)
- ১৪। হানাফী মাযহাবের
- ফিক্বাহ গ্রন্থাবলীতেও রাফ’উল
- ইয়াদাইনের পক্ষে বক্তব্য
- রয়েছে। তন্মধ্যকার
- কয়েকটি উল্লেখ করা হলঃ(ক) রুকু’র
- পূর্বে ও পরে রফ’উল ইয়াদাইন করার
- হাদীস প্রমাণিত আছে। (আয়নুল
- হিদায়া ১/৩৮৪, নুরুল হিদায়া)
- (খ) রফ’উল ইয়াদাইন করার হাদীস,
- রফ’উল ইয়াদাইন না করার
- হাদীসের চাইতে শক্তিশালী ও
- মজবুত। (আয়নুল হিদায়া ১/৩৮৯)
- (গ) বায়হাক্বীর হাদীসে আছে,
- ইবনু উমার বর্ণনা করেছেন,
- রাসূলুল্লাহ (সাঃ) মৃত্যু পর্যন্ত
- সালাতের মধ্যে রফ’উল ইয়াদাইন
- করেছেন। (ইয়নুল হিদায়া ১/১৮৬)
- (ঘ) রফ’উল ইয়াদাইন না করার
- হাদীস দুর্বল। (নুরুল হিদায়া, ১০২)
- (ঙ) রাসূলুল্লাহ (সাঃ) থেকে রফ’উল
- ইয়াদাইন প্রমাণিত
- আছে এবং এটাই হাক্ব। (আয়নুল
- হিদায়অ ১/৩৮৬)
- এবার সহীহ হাদীসের
- আলোকে রফ’উল ইয়াদাইনের
- কয়েকটি প্রসিদ্ধ হাদীস
- বর্ণনা করা হলোঃ
- (১) ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)
- সুত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন,
- আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)
- কে দেখেছি, তিনি যখন
- সালাতেস জন্য দাঁড়াতেন তখন
- কাঁধ পর্য্ত দু’ হাত উঠাতেন,
- এবং তিনি যখন রুকু’র জন্য তাকবীর
- বলতেন তখনও এরূপ করতেন, আবার যখন
- রুকু’ থেকে মাথা উঠাতেন তখনও এ
- রকম করতেন
- এবং সামিআল্লাহুলিমান
- হামিদাহ বলতেন।
- তবে তিনি সাজদাহর সময় এমন
- করতেন না। (সহীহুল বুখারী, ৭৩৪,
- ৭৩৫, মুসলিম, নাসায়ী, ইবনু
- মাজাহ, আহমাদ, মুয়াত্তা মালিক,
- মায়াত্তা মুহাম্মাদ, ত্বাহাভী,
- বায়হাক্বী, তিরিমিযী)
- (২) মালিক ইবনুল হুওয়াইরিস
- (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ)
- যখন সালাতের জন্য তাকবীর
- দিতেন তখন কান পর্যন্ত দু’ হাত
- উঠাতেন।
- একইভাবে তিনি রুকু’তে যাওয়ার
- সময় কান পর্যন্ত দু’ হাত উঠাতেন
- এবং রুকু’ থেকে উঠার সময়ও কান
- পর্যন্ত হাত উঠাতেন ও
- সামিআল্লাহুলিমান হামিদাহ
- বলতেন। (সহীহ মুসলিম হা/৩৯১,
- সহীহ সুনানে ইবনে মাজাহ,
- সহীহ আবূ দাউদ, ইরওয়অ ২/৬৭,
- হাদীসটি সহীহ)
- (৩) আলী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত।
- তিনি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)
- কে তাকবীরে তাহরীমাহর সময়,
- রুকু’র সময়, রুকু’ হতে মাথা উঠানোর
- সময় এবং দু’ রাক’আত শেষে তৃতীয়
- রাক’আতে দাঁড়ানোর সময়ে রফ’উল
- ইয়াদাইন করতে দেখেছেন।
- (বায়হাক্বী ২/৮০, বুখারীর জুযউল
- ক্বিরআত, আবূ দাউদ, ইবনে মাজাহ)
- (৪) ওয়ায়িল ইবনু হুজর (রাঃ)
- সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন,
- আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর
- সাথে সালাত আদায় করেছি।
- তিনি তাকবীর দিয়ে সালাত
- আরম্ভ করে দু’হাত উঁচু করলেন। অতঃপর
- রুকু’ করার সময় এবং রুকু’র পরেও
- দু’হাত উঁচু করলেন। (আহমাদ,
- বুখারীর জুযউল ক্বিরাআত,
- ইবনে মাজাহ, আবূ দাউদ)
- (৫) মুহাম্মাদ ইবনু ‘আমর বলেন,
- আমি নাবী (সাঃ) এর দশজন
- সাহাবীর মধ্যে আবূ হুমাইদের
- নিকট উপস্থিত ছিলাম, তাঁদের (আবূ
- হুমাইদ, আবূ উসাইদ, সাহল ইবনু সা’দ,
- মুহাম্মাদ ইবনু মাসলামাহ- (রাঃ)
- প্রমুখ সাহাবীগণের) মধ্যে একজন
- আবূ ক্বাতাদাহ ইবনু রবয়ী (রাঃ) ও
- ছিলেন। তিনি বললেন,
- আমি রসূলুল্লাহ (সাঃ) এর সালাত
- সম্পর্কে আপনাদের
- চাইতে বেশি অবগত।
- তাঁরা বললেন, তা কিভাবে?
- আল্লাহর শপথ! আপনি তো আমাদের
- চেয়ে তাঁর অধিক নিকটবর্তী ও
- অধিক অনুসরণকারী ছিণেন না।
- তিনি বললেন,
- বরং আমি তো তাঁকে পর্যবেক্ষন
- করেছিলাম। তাঁরা বললেন, এবার
- তাহলে উল্লেখ করুন। তিনি বললেন,
- রসূলুল্লাহ (সাঃ) যখন
- সালাতে দাঁড়াতেন তখন দু’হাত
- উঁচু করতেন এবং যখন রুকু’ করতেন, রুকু’
- থেকে মাথা উঠাতেন, এবং দু’
- রাক’আত শেষে তৃতীয়
- রাক’আতে দাঁড়াতেন তখনও দু’ হাত
- উঁচু করতেন। এ
- বর্ণনা শুনে তাঁরা সবাই বললেন,
- আপনি সত্যই বলেছেন। (বুখারীর
- জুযউল ক্বিরাআত, সহীহ ইবনু মাজাহ,
- সহীহ আবূ দাউদ)
- রফ’উল ইয়াদাইন সম্পর্কে বর্ণিত
- হাদীস ও আসারের
- সংখ্যা এবং সেসবের মান-
- (ক) রফ’উল ইয়াদাইন সম্পর্কে বর্ণিত
- সর্বমোট সহীহ হাদীস ও আসারের
- সংখ্যা অনূ্যন ৪০০ শত। (সিফরুস
- সাআদাত, পৃ-১৫)
- (খ) ইমাম বুখারী (রহঃ) বলেন,
- রফ’উল ইয়াদাইনের হাদীস সমূহের
- সানাদের চেয়ে বিশুদ্ধতম
- সানাদ আর নেই। (ফাতহুল
- বারী ২/২৫৭)
- (গ) হাদীসের অন্যতম ইমাম হাফিয
- তাকীউদ্দিন সুবকী (রহঃ) বলেন,
- সালাতের মধ্যে রফ’উল ইয়অদাইন
- করার হাদীস এতো বেশী যে,
- রফ’উল ইয়াদাইনের
- হাদীসকে মুতাওয়াতির
- বলা ছাড়া উপায় নেই। (সুবকীর
- জুযউ রফ’উল ইয়াদাইন)
- রফ’উল ইয়াদাইনের হাদীস
- বর্ণনাকারী সাহাবীগণের
- সংখ্যা-*** রুকু’তে যাওয়া ও রুকু’
- হতে উঠার সময় রফ’উল ইয়অদাইন
- করা সম্পর্কে চার খলীফাসহ প্রায়
- ২৫ জন সাহাবী থেকে বর্ণিত
- হাদীস সমূহ রয়েছে। (সালাতুর
- রসূল (সাঃ), পৃষ্ঠা ৬৫, হাদীস
- ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ
- প্রকাশিত)
- ***মুহাদ্দিস ইরাক্বী (রহঃ) তাঁর
- ফাতহুল মুগীস গ্রন্থে বলেন,
- আমি সালাতে রফ’উল ইয়াদাইনের
- হাদীস প্রায় ৫০ জন
- সাহাবা হতে একত্রিত করেছি।
- তিনি তাকরীবুল আসানীদ ও
- তাকরীবুল মাসানীদ
- গ্রন্থে বলেন, জেনে রাখ!
- সালাতে রফ’উল ইয়াদাইনের
- হাদীস ৫০ জন
- সাহাবায়ি কিরাম হতে বর্ণিত
- হয়েছে। (ফাতহুল মুগীস ৪/৮,
- কিতাবু তাকরীবুল আসানীদ ও
- তাকরীবুল মাসানীদ প্র-১৮)
- রাফ’উল ইয়াদাইনের গুরুত্ব ও
- ফাযীলাত-
- (১) মালিক বলেন, ইবনু ‘উমার
- (রাঃ) কোন
- ব্যক্তিকে সালাতে রুকু’র সময় ও রুকু’
- থেকে উঠার সময় রফ’উল ইয়াদাইন
- না করতে দেখলে তাকে ছোট
- পাথর ছুঁড়ে মারতেন, যতক্ষন
- না সে রফ’উল ইয়াদাইন করে।
- (বুখারীর জুযউ রফ’উল ইয়াদইন,
- আহমাদ, দারকুতনী-নাফি,
- হতে সহীহ সানাদে)
- (২) ‘উক্ববাহ ইবনু ‘আমির (রাঃ)
- বলেন, যে ব্যক্তি রুকু’র সময় এবং রুকু’
- থেকে মাথা উঠানোর সময় রফ’উল
- ইয়াদাইন করে তার জন্য
- রয়েছে প্রত্যেক ইশারার
- বিনিময়ে দশটি নেকী।
- (বায়হাক্বীর মা’রিফাত ১/২২৫,
- মাসায়িলে আহমাদ, কানযুল
- ‘উম্মাল)
- (৩) ইবনু ‘উমার (রাঃ) বলেন, রফ’উল
- ইয়াদাইন হচ্ছে সালাতের
- সৌন্দর্য্যের একটি শোভা।
- প্রত্যেক রফ’উল ইয়াদাইনের
- বদলে দশটি করে নেকী রয়েছে,
- অর্থাৎ প্রত্যেক আঙ্গুলের
- বিনিময়ে রয়েছে একটি করে
- নেকী।
- (আল্লামা আইনী হানাফীর
- ‘উমদাতুল ক্বারী ৫/২৭২)
- এতে প্রমাণিত হয়, রফ’উল ইয়াদাইন
- করার কারণে দু’ রাক’আত
- সালাতে ৫০ আর চার রাক’আত
- সালাতে ১০০টি নেকী বেশি
- পাওয়া যায়। এ
- হিসেবে প্রতিদিন পাঁচ
- ওয়াক্তের ১৭ রাক’আত ফরয
- সালাতে ৪৩০ নেকী,
- একমাসে ১২,৯০০ নেকী আর এক
- বছরে ১,৫৪,৮০০ নেকী শুধু রফ’উল
- ইয়াদাইন করার জন্য বাড়তি যোগ
- হচ্ছে। সুতরাং কোন
- ব্যক্তি সালাতে রফ’উল ইয়াদাইন
- করার কারণে ৩০ বছরে ৪৬,৪৪,০০০
- নেকী আর ৬৫ বছরে ১,০০,৬২,০০০
- নেকী বেশি পাচ্ছেন। এটা শুধু
- পাঁচ ওয়াক্ত ফরয সালাতের
- হিসাব এছাড়া সুন্নাত, নাফল,
- বিতর, তাহাজ্জুত, তারাবীহ
- প্রভৃতি সালাতে রফ’উল ইয়াদাইন
- করার নেকী তো রয়েছেই। যা এ
- হিসাব অনুপাতেই পাওয়া যাবে।
- সুতরাং যারা ফারয, সুন্নাত,
- নাফল প্রভৃতি সালাতে রফ’উল
- ইয়াদাইন করেন
- না তারা কতগুলো নেকী থেকে
- বঞ্চিত হচ্ছেন
- তা কি ভেবে দেখেছেন? অথচ
- ক্বিয়ামাতের দিন হাশরের
- ময়দানে মানুষ একটি নেকী কম
- হওয়ার
- কারনে জান্নাতে যেতে পারবে
- না!
- আমাদের মাযহাবের রফ’ইয়াদাইন
- না করার
- পক্ষে সবথেকে শক্তিশালী
- হাদীস এবং তার তাত্বিক
- পর্যালোচনাঃ
- ****”আলক্বামাহ (রহঃ)
- সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন,
- ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) বলেন,
- আমি কি তোমাদেরকে
- রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর সালাত
- কিরূপ ছিল তা শিক্ষা দেব না?
- বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর
- তিনি সালাত আদায় করলেন
- এবং তাতে কেবল একবার হাত
- উত্তোলন করলেন। (আবূ দাউদ,
- তিরমিযী, নাসয়ী)
- হাদীসটি ইমাম
- তিরমিযী হাসান বলেছেন
- এবং ইবনু হাযাম বলেছেন সহীহ।
- পক্ষান্তরে অন্যান্য ইমামগণ
- এটিকে দুর্বল আখ্যায়িত করেছেন।
- যেমন ইমাম বুখারী, ইমাম আহমাদ
- উবনু হাম্বাল, ইমাম নাববী, ইমাম
- শাওকানী (রহঃ) প্রমূখ ইমামগণ
- হাদীসটিকে দুর্বল বলেছেন। (আল-
- মাজমু’আহ ফী আহাদীসিল মাওযু’আহ,
- ২০ পৃঃ)
- ইমাম ইবনু হিব্বান বলেন, রফ’উল
- ইয়াদাইন না করার
- পক্ষে কূফাবাসীদের এটিই
- সবচেয়ে বড় দলীল হলেও এটিই
- সবচেয়ে দুর্বলতম দলীল। কেননা এর
- মধ্যে এমন সব বিষয়
- রয়েছে যা একে বাতিল বলে গণ্য
- করে। (নায়লুল আওত্বার ৩/১৪,
- ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/১০৪, আওনুল মা’বুদ)
- হাফিয ইবনু হাজার (রহঃ) ‘আত-
- তালখীস’ গ্রন্থে বলেন, ইবনুল
- মুবারক বলেছেন, হাদীসটি আমার
- নিকট প্রমাণিত ও প্রতিষ্ঠিত নয়।
- ইবনু আবূ হাতিম বলেন, এ
- হাদীসটি ভুল ও ত্রুটিযুক্ত। ইমাম
- আহমাদ ও তাঁর শায়খ ইয়াহইয়া ইবনু
- আদাম বলেন, হাদীসটি দুর্বল।
- ইমাম আবূ দাউদ বলেন,
- হাদীসটি সহীহ নয়। ইমাম
- দারকুতনী বলেন,
- হাদীসটি প্রমাণিত নয়। ইমাম
- বায়হাক্বী এবং ইমাম
- দারিমী (রহঃ) ও
- হাদীসটিকে দুর্বল বলে আখ্যায়িত
- করেছেন। অন্যদিকে ইমাম
- তিরমিযী হাসান বললেও
- তিনি নিজেই আবার ‘আবদুল্লাহ
- ইবনুল মুবারক (রহঃ) -এর সূত্রে উল্লেখ
- করেছেন যে,
- হাদীসটি প্রমাণিত নয়
- এবং প্রতিষ্ঠিতও নয়। (আওনুল মা’বুদ,
- নায়লুল আওত্বার, জামি আত-
- তিরমিযী ও অন্যান্য)
- আল্লামা শামসুল হাক্ব
- ‘আযীমাবদী (রহঃ) বলেন,
- তাকবীরে তাহরীমাহ ব্যতীত
- অন্যত্র রফ’উল ইয়াদাইন না করার
- পক্ষে এ হাদীসটি দলীল
- হিসাবে পেশ করা হয়। কিন্তু
- হাদীসটি দলীলযোগ্য নয়।
- কেননা হাদীসটি দুর্বল ও
- অপ্রমাণিত।
- আল্লামা নাসিরুদ্দীন
- আলবানী (রহঃ) বলেন,
- নাবী (সাঃ) হতে ইবনু মাসউদের
- সূত্র ছাড়া অন্য কোন
- মাধ্যমে রফ’উল ইয়অদাইন
- ছেড়ে দেয়ার ব্যাপারে সহীহ
- সুন্নাহ সাব্যস্ত হয়নি। আর ইবনু
- মাসউদের এ হাদীসটিকে সহীহ
- মেনে নিলেও তা রফ’উল ইয়াদাইন
- এর পক্ষে বর্ণিত সহীহ
- হাদীসসমূহের বিপরীতে পেশ
- করা যাবে না এবং ইবনু
- মাসউদের এ হাদীসের উপর আমল
- করা উচিত হবে না।
- কেননা এটি না-বোধক আর
- ঐগুলি হাঁ-বোধক।
- ‘ইলমে হাদীসের
- মূলনীতি অনুযায়ী হাঁ-বোধক
- হাদীস না-বোধক হাদীসের উপর
- অগ্রাধিকার যোগ্য।
- মাযহাবী থিওরীতে বলা
- হয়েছে, হানাফী ও অন্যদের
- নিকট যখন হাঁ-সূচক ও না-সূচকের
- সাথে দ্বন্দ্ব দেখা দিবে তখন
- না-সূচকের উপর হাঁ-সূচক
- অগ্রাধিকার পাবে। এরূপ
- নীতি বলবৎ হয় যদি হা-সূচকের
- পক্ষে একজনও হয় তবুও।
- সুতরাং সেখানে বিরাট এক
- জামা’আত হাঁ-সূচকের
- পক্ষে সেখানে অন্য কোন প্রশ্নই
- আসতে পারে না। যেমনটি এ
- মাসআলার ক্ষেত্রে। সুতরাং দলীল
- সাব্যস্ত হওয়ার পর
- গোড়ামী না করাটাই
- উচিত…………।(হাশিয়া মিশকাত;
- আলবানী ১/১৫৪, ও যঈফাহ ৫৬৮)
- ইমাম বায়হাক্বী, শায়খ আবূল
- হাসান সিন্দী হানাফী ও
- ফাক্বীহ আবূ বাকর ইবনু ইসহাক্ব
- (রহঃ) প্রমূখগণ বলেনঃ বরং ইবনু
- মাসউদ এমন কিছু বিষয়
- ভুলে গেছেন
- যে ব্যাপারে মুসলিমগণ মতভেদ
- করেনি। যেমনঃ (১) তিনি সমস্ত
- সাতাবায়ি কিরাম ও মুসলিম
- উম্মাহর বিপরীতে সূরাহ নাস ও
- সূরাহ ফালাক্বকে কুরআনের অংশ
- মনে করতেন না। (২)
- তিনি তাতবীক অর্থাৎ রুকু’র সময় দু’
- হাঁটুর মাঝখানে দু’ হাত
- জড়ো করে হাঁটু
- দ্বারা চেপে রাখতে বলতেন।
- অথচ এরূপ আমাল রহিত হয়ে যাওয়অ
- এবং তা বর্জন করার উপর সকল
- আলিমগণ যে একমত হয়েছেন তাও
- তিনি ভুলে গেছেন। (৩) ইমামের
- সাথে দু’ জন
- মুক্তাদী হলে মুক্তাদীদ্বয়
- কোথায় কিভাবে দাঁড়াবেন
- তাও তিনি ভুলে গেছেন।
- তিনি বলতেন, ইমামের বরাবর
- দাঁড়াতে হবে। অথচ
- এটা হাদীসের সম্পূর্ণ খেলাফ। (৪)
- তিনি ভুলে গিয়েছিলেন বিধায়
- এরূপ বলতেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ)
- ঈদুল আযহার দিন ফাজরের সালাত
- সঠিক সময়ে পড়তেন না বরং ঈদের
- সালাতের পূর্বে পড়তেন। অথচ
- এটা সমস্ত মুসলিম উম্মাহর বিরুদ্ধ
- মত। এ ব্যাপারে সমস্ত আলিমগণের
- ঐক্যমতের কথাও
- তিনি ভুলে গেছেন। (৫)
- তিনি ভুলে গেছেন নাবী (সাঃ)
- ‘আরাফার ময়দানে কী নিয়মে দু’
- ওয়াক্ত সালাত একত্রে আদায়
- করেছেন। ((৬) তিনি সাজদাহর
- সময় মাটিতে হাত
- বিছিয়ে রাখতে বলতেন। অথচ
- এটি হাদীসের পরিপন্থি হওয়ার
- ব্যাপারে আলিমগণ মতভেদ
- করেননি বরং একমত পোষন
- করেছেন, তাও ইবনু মাসউদ
- ভুলে গেচেন।
- অতএব এ সমস্ত ভুল যাঁর হয়েছে, তাঁর
- সালাতে রফ’উল ইয়াদাইন
- না করা এবং সে বিষয়ে হাদীস
- না জানা বা না বলাও ভুলের
- অন্তর্ভূক্ত। এতে কোন সন্দেহ নেই।
- তাছাড়া মুহাদ্দিসীনে
- কিরামের নিকট এ কথা প্রসিদ্ধ
- যে, ইবনু মাসউদের শেষ
- বয়সে বার্ধক্যজনিত
- কারনে স্মৃতি ভ্রম ঘটে।
- সুতরাং রফ’উল ইয়াদাইন না করার
- হাদীসটিও সে সবের অর্ন্তভূক্ত
- হওয়া মোটেই অস্বাভাবিক নয়।
- (মাওয়াহিবু লাতীফা ১/২৬০,
- ইমাম বুখারীর জুযউ রাফ’উল
- ইয়াদাইন, ইমাম যায়লায়ী,
- হানাফীর নাসবুর রায়হ ৩৯৭-৪০১,
- ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/১৩৪, শারহু
- মুসনাদে ইমাম আবূ হানিফা ১৪১
- পৃঃ, বালাগুল মুবীন ১/২২৯)
- রফ’উল ইয়াদাইন না করার এই
- হাদীস সম্পর্কে ইমাম আহমাদ ইবনুল
- হাম্বাল (রহঃ),
- আল্লামা সুয়ূতী (রহঃ), ইমাম ইবনু
- তাইমিয়্যাহ (রহঃ) ও ইমাম
- শাওকানী (রহঃ) বানোয়াট
- (মাওযূ) বলেছেন। (তাসহীলূল
- ক্বারী, আল-ফাওয়ায়িদুল মাওযু’আহ,
- আল-লাআ-লিল মাসনু’আহ ফিল
- আহাদীসিল মাওযু’আহ ২/১৯)
- আলোচনা আর দীর্ঘ
- করতে চাচ্ছি না। এমনিতেই
- পাঠকগণ এতটুকু পড়বেন কি-
- না সন্দেহ আছে। তার পরেও
- আপনাদের অনুরোধ করব, পুরাটুকু
- পড়তে। আমার শরীরে ১০২
- ডিগ্রি জ্বর, তা সত্বেও লিখছি আর
- আপনারা সুস্থ্য
- শরীরে পড়তে পারবেন
- না এটা কি হয়? আর সামন্য
- আলোচনা করেই শেষ করছি।
- দয়া করে অধৈর্য হবেন না।
- রফ’উল ইয়াদাইনের পক্ষে জমহুর
- মুহাদ্দিস, জমহুর ফাক্বীহ ও
- মুজতাহিদ ইমামগণের অভিমত-
- (০১) ইমাম মুখারী ও ইমাম
- বায়হাক্বী (রহঃ)
- বলেনঃ মাক্কাহ, মাদীনাহ,
- হিজাজ, ইয়ামান, সিরিয়া,
- ইরাক, বাসরাহ, খুরাসান
- প্রভৃতি দেশের লোকেরা সকলেই
- রুকু’তে যাওয়ার সময় এবং রুকু’
- থেকে মাথা উঠানোর সময় রফ’উল
- ইয়াদাইন করতেন। (বুখারীর জুযউল
- ক্বিরআত)
- অসংখ্য সহীহ হাদীস ও আসার
- বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও
- যারা রফ’উল ইয়াদাইন করেন
- না তাদের বিরুদ্ধে ইমাম
- বুখারী (রহঃ) ‘জুযউ রফউল ইয়াদাইন’
- নামে একটি স্বতন্ত্র কিতাবই
- রচনা করেছেন এবং সেখানে এর
- পক্ষে ১৯৮টি দলীল
- বর্ণনা করেছেন।
- অনুরূপভাবে হাদীসের অন্যতম
- হাফিয তাকীউদ্দিন সুবকী (রহঃ)
- ও রফ’উল ইয়াদাইনের পক্ষে জুযউ
- রফউল ইয়াদাইন’
- নামে একখানা স্বতন্ত্র কিতাব
- রচনা করেছেন।
- সুতরাং মুহাদ্দিসগণের নিকট
- রফ’উল ইয়াদাইন যে কত বড় গুরুত্বপূর্ণ
- সুন্নাত তা সহজেই অনুমেয়।
- (০২) ইমাম তিরমিযী (রহঃ), ইমাম
- ইবনু হিব্বান (রহঃ), ইমাম
- মুহাম্মাদ নাসর (রহঃ), ইমাম
- বুখারীর উস্তাদ ইমাম ইবনুল
- মাদীনী (রহঃ), ইবনু আবদুল বার
- (রহঃ), শাহ ইসমাঈল শহীদ (রহঃ),
- হাফিয ইবনুল কাইয়্যিম আল
- জাওযী (রহঃ),
- আল্লামা নাসিরুদ্দিন
- আলবানী (রহঃ), শায়খ সালিহ আল-
- উসাইমিন (রহঃ), স’উদী আরবের
- প্রাক্তন গ্রান্ড মুফতী শায়খ ‘আবদুল
- ‘আযীয বিন বায (রহঃ) প্রমূখ
- মুহাদ্দিসগণ সকলেই রফ’উল
- ইয়াদাইনের পক্ষে তাদের দলীল
- সহ মতবাদ ব্যক্ত করেছেন।
- আমরা বাংলাদেশের গুটিকতক
- গরুখাওয়া মুসলমান সোয়াবের
- আশায় মিলাদ, শবেবরাত, পীর
- পুজা, উরুস, মাজারের উপর গম্বুজ
- নির্মাণ, আজানের সময়
- আঙ্গুলে চুম্বন, প্রত্যেক ফরয
- নামাজের পর সম্মিলিত
- মোনাজাত, খতমে খাজেগাঁ,
- খতমে শবিনা, খতমে ইউনুস,
- নামাযের পূর্বে মুখে নিয়্যাত
- উচ্চারণ এসকল
- বিষয়গুলো নিয়ে এতই
- মেতে আছি অথচ নামাযের
- মধ্যে এত বড় একটা আমল ‘রফে’উল
- ইয়াদাইন’ কে কর্তন
- করে একেবারে বিতাড়িত
- করেছি। আর সকলকে বুঝাচ্ছি এটাও
- ঠিক ওটাও ঠিক!!
- আসুন আমরা হিংসা-বিদ্বেষ
- ছেড়ে সঠিক আকিদার
- মানদন্ডে নিজেদের
- আমলকে পরিশুদ্ধ করার
- চেষ্টা করি। আমীন…
নামাযে রফে ইয়াদাইন করার দলিল Part-1 – সহিহ হাদিস ও আছার থেকে
Reviewed by
Alaminitbd official
on
October 08, 2021
Rating:
5
No comments