Breaking News

নামাযে রফে ইয়াদাইন করার দলিল Part-1 – সহিহ হাদিস ও আছার থেকে

  • রফ’উল ইয়াদাইন
  • রফ’উল ইয়াদাইন

  • হাতের
  • কাছে নেকী থাকতে “নেকী’র
  • জন্য হুড়াহুড়ি!! বিষয়টি তুচ্ছ হলেও
  • আসুন একটু পর্যালোচনা করি।
  • লিখেছেন:’শাহরিয়ার’
  • বিসমিল্লাহির রহমানির
  • রাহিম
  • আমরা নেকীর আশায় আজ
  • ভুরি ভুরি বিদ’আত কাজ
  • করে চলেছি, অথচ
  • আমরা সত্যিকারের
  • নেকীকে দুরে ঠেলে আজ কতই
  • না ক্ষতির স্বীকার হচ্ছি তার
  • হিসাব একমাত্র আল্লাহ তা’আলাই
  • জানেন। আজ একটা বই পড়লাম
  • এবং মহা চিন্তিত হয়ে গেলাম,
  • চিন্তা কেন জানেন? আসলেই
  • কি আমরা ভুল করছি? না-
  • কি পারষ্পারিক হিংসা-
  • বিদ্বেষ আর
  • ইসলামে দালাদলি নামক
  • ফাঁটা বাঁশের
  • গ্যাড়াকলে বন্দি হয়ে গেছি?
  • পাঠক সমাজের কাছে আমার এই
  • মূল্যহীন লেখা কতটুকু
  • কাজে দিবে জানিনা,
  • তবে আশা রাখি আপনারা যারা
  • আমার এই লেখাটুকু বিস্তারিত
  • পড়বেন এবং তা থেকে ভাল কিছু
  • অর্জন
  • করতে পারলে আমাকে দয়া করে
  • জানাবেন। আমি বড়ই অশান্তির
  • ভিতর আছি।
  • আলোচনাটি সংক্ষিপ্ত
  • করতে চাইলেও উপায় খুঁজে পেলাম
  • না কারন এটি এমন একটি বিষয়
  • যেখানে খুঁটি-নাটি উল্লেখ
  • না করলে আপনারাই আমাকে ভুল
  • বুঝে নানা রকম মন্তব্য করে বসবেন
  • তখন আবার মন্তব্যের উত্তর
  • দিতে গিয়ে গলধঘর্ম হতে হবে।
  • তার চেয়ে বরং একবারেই একটু
  • কষ্ট করে পড়ে নিয়েন।
  • এখানে আপনাদের
  • যুক্তি এবং দলিলের
  • পর্যালোচনা করেছি যা
  • আপনাদের
  • কাজে লাগবে এবং বিষয়টি
  • বুঝতে সুবিধা হবে।
  • দয়া করে কেউ আমাকে ভুল বুঝবেন
  • না; এবং এ কথাও বলবেন
  • না যে আমি নিজ থেকে যত্তোসব
  • আউলা ঝাউলা কথা আপনাদের
  • সম্মুখে পেশ করছি।

  • আমরা হানাফী মাযহাবের
  • অনুসারীগণ
  • নামাজে রুকুতে যাওয়ার সময়
  • এবং রুকু থেকে ওঠার সময় রফ’উল
  • ইয়াদাইন করি না। আলিম সমাজ
  • আমাদের মত অধম বান্দাদের
  • বলে থাকেন,
  • এটি নাবী মুহাম্মাদ (সাঃ) প্রথম
  • দিকে করেছেন এবং শেষের
  • দিকে বাদ দিয়েছেন অর্থাৎ
  • মানসুখ হয়ে গেছে। আমরা সেই
  • বিশ্বাসেই আজ রফ’উল ইয়াদাইন
  • করি না। যাহা অন্যান্য মাযহাব
  • এবং আমাদের
  • দেশে আহলে হাদীস
  • বা সালাফীগণ করে থাকেন।
  • মসজিদের
  • হুজুরকে জিজ্ঞেসা করলে বলে,
  • দু’ইটাই সুন্নাত। আসুন একটু
  • বিস্তারিত আলোচনা করিঃ
  • প্রথমেই আমাদের
  • হানাফী মাযহাবের শ্রেষ্ঠ
  • আলিমগণের মতামত দিয়ে শুরু
  • করা যাকঃ১।
  • মোল্লা ‘আলী ক্বারী হানাফী (
  • রহঃ)
  • বলেনঃ সালাতে রুকু’তে যাওয়ার
  • সময় ও রুকু’ থেকে উঠার সময় দু’ হাত
  • না তোলা সম্পর্কে যেসব হাদীস
  • বর্ণিত হয়েছে সেগুলো সবই
  • বাতিল হাদীস। তন্মধ্যে একটিও
  • সহীহ নয়। (মাওযু’আতে কাবীর,
  • পৃ-১১০)
  • ২। হানাফী মুহাদ্দিস
  • আল্লামা বদরুদ্দীন
  • আইনী হানাফী (রহঃ)
  • রুকু’তে যাওয়ার পূর্বে রফ’উল
  • ইয়াদাইন করার ব্যাপারে ইমাম
  • আবূ হানিফা (রহঃ)
  • সম্পর্কে লিখেছেনঃ ইমাম আবূ
  • হানিফা সূত্রে বর্ণিত
  • হয়েছে যে, তা ত্যাগ করলে গুনাহ
  • হবে। (’উমদাতুল ক্বারী, ৫/২৭২)
  • ৩। শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিস
  • দেহলবী হানাফী (রহঃ)
  • বলেনঃ যে মুসল্লী রফ’উল ইয়াদাইন
  • করে ঐ মুসল্লী আমার কাছে অধিক
  • প্রিয় সেই মুসল্লীর
  • চাইতে যে রফ’উল ইয়াদাইন
  • করে না। কারন রফ’উল ইয়াদাইন
  • করার হাদীসগুলো সংখ্যায়
  • বেশি এবং অধিকতর মজবুত।
  • (হুজ্জাতুল্লাহহিল বালিগাহ
  • ২/১০)তিনি আরো বলেন, রফ’উল
  • ইয়াদাইন হচ্ছে সম্মান সূচক কর্ম।
  • যা মুসল্লীকে আল্লাহর দিকে রুজু
  • হওয়ার
  • ব্যাপারে এবং সালাতে তন্ময়
  • হওয়ার ব্যাপারে হুশিঁয়ার
  • করে দেয়। (হুজ্জাতু্ল্লাহিল
  • বালিগাহ ২/১০)
  • ৪। আল্লামা আবুল হাসান
  • সিন্ধী হানাফী (রহঃ)
  • বলেনঃ যারা এ কথা বলে যে,
  • তাকবীরে তাহরীমাহ
  • ছাড়া রুকু’তে যাওয়ার সময়
  • এবং রুকু’ থেকে উঠার সময় দু’ হাত
  • তোলার হাদীস মানসূখ ও রহিত,
  • তাদের ঐ দাবী দলীলবিহীন
  • এবং ভিত্তিহীন। (শারহু
  • সুনানে ইবনে মাজাহ, মিসরের
  • ছাপা ১ম খন্ড ১৪৬ পৃষ্ঠার টিকা)
  • ৫। আল্লামা আনোয়ার শাহ
  • কাশমিরী হানাফী (রহঃ)
  • বলেনঃ এ কথা জানা উচিত যে,
  • সালাতে রফ’উল ইয়াদাইন করার
  • হাদীস সূত্র ও ‘আমালের দিক
  • দিয়ে ****মুতাওয়াতির,
  • এতে কোনই সন্দেহ নেই। আর
  • এটা মানসূখও নয় এবং এর একটি হরফও
  • নাকচ নয়। (নাইলুল ফারকাদাইন, পৃ-
  • ২২, রসূলে আকরাম কী নামায, পৃ-৬৯)
  • ****মুতাওয়াতিরঃ মুতাওয়াতির
  • বলা হয় সেই
  • হাদীসকে যেটিকে এতো অধিক
  • সংখ্যক
  • বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন যে,
  • তাদের পক্ষে সাধারণত মিথ্যার
  • উপর একত্রিত হওয়া সম্ভব নয়।
  • ৬। আল্লামা ‘আবদুল হাই
  • লাখনৌভী হানাফী (রহঃ)
  • বলেনঃ নাবী (সাঃ)-এর
  • সূত্রে রফ’উল ইয়াদাইন করার
  • প্রমাণ
  • বেশী এবং প্রাধান্যযোগ্য। আর
  • এটা মানসূখ বা নাকচ হবার
  • দাবী যা ত্বাহাভী, ইবনুল হুমাম
  • ও আইনী প্রমূখ আমাদের দলের
  • মনীষীদের পক্ষ থেকে প্রচারিত
  • হয়েছে, তা এমনই প্রমাণহীন
  • যে তদদ্বারা রোগী নিরোগ হয়
  • না এবং পিপাসার্তও তৃপ্ত হয় না।
  • (আত-তা’লীকুল মুমাজ্জাদ, পৃ-৯১)
  • ৭। ইমাম মুহাম্মাদের সাথী ও
  • ইমাম আবূ ইউসূফের শিষ্য ইসাম ইবনু
  • ইউসূফ আল বালাখী (রহঃ)-এর রফ’উল
  • ইয়াদাইন
  • করা সম্পর্কে আল্লামা ‘আবদুল হাই
  • লাখনৌভী হানাফী (রহঃ)
  • বলেনঃ ইসাম ইবনু ইউসূফ ছিলেন
  • ইমাম আবূ ইউসূফের শাগরিদ
  • এবং হানাফী।
  • তিনি রুকু’তে যাওয়ার সময়
  • এবং রুকু’ থেকে উঠার সময় রাফ’উল
  • ইয়াদাইন করতেন- (আল-
  • ফাওয়ায়িদুল বাহিয়্যাহ
  • ফী তারাজিমিল হানাফিয়্যাহ,
  • পৃ-১১৬)। আবদুল্লাহ ইবনু মুবারক,
  • সুফিয়ান সাওরী এবং শু’বাহ
  • (রহঃ) বলেন, ইসাম ইবনু ইউসূফ
  • মুহাদ্দিস ছিলেন। সেজন্য
  • তিনি রফ’উল ইয়াদাইন করতেন।
  • (আল-ফাওয়ায়িদুল বাহিয়্যাহ,
  • পৃ-১১৬)
  • ৮। শায়খ আবূত ত্বালিব
  • মাক্কী হানাফী (রহঃ) তার ‘কুতুল
  • কুলূব’ গ্রন্থে সালাতের সুন্নাত সমূহ
  • বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন,
  • রুকু’তে যাওয়ার সময় রফ’উল
  • ইয়াদাইন করা ও তাকবীর
  • বলা সুন্নাত। তারপর
  • ‘সামিআল্লাহুলিমান হামিদাহ’
  • বলে রফ’উল ইয়াদাইন করা সুন্নাত।
  • (কুতুল কুলূব ৩/১৩৯)
  • ৯। কাজী সানাউল্লাহ
  • পানিপত্তি হানাফী (রহঃ)
  • বলেনঃ বর্তমান সময়ের অধিকাংশ
  • ‘আলিমের দৃষ্টিতে রফ’উল ইয়াদাইন
  • করা সুন্নাত। অধিকাংশ ফাক্বীহ
  • ও মুহাদ্দিসীনে কিরাম
  • একে প্রমাণ করেছেন।
  • (মালাবুদ্দাহ মিনহু, পৃ-৪২, ৪৪)
  • ১০। শায়খ ‘আবদুল ক্বাদির
  • জিলানী (রহঃ) সালাতের
  • সুন্নাত সমূহের
  • বর্ণনা করতে গিয়ে বলেনঃ
  • সালাত শুরু করার সময়,
  • রুকু’তে যাওয়ার সময় এবং রুকু’
  • হতে উঠার সময় রফ’উল ইয়াদাইন
  • করা সুন্নাত। (গুনিয়াতুত
  • ত্বালিবীন, পৃ-১০)
  • ১১। দ্বিতীয় আবূ
  • হানিফা নামে খ্যাত
  • আল্লামা ইবন নুজাইম (রহঃ)
  • বলেনঃ রুকু’তে যাওয়ার সময় ও রুকু’
  • থেকে মাথা উঠানোর সময় রফ’উল
  • ইয়াদাইন করলে সালাত বরবাদ
  • হবার কথা যা মাকহুল
  • নাসাফী ইমাম আবূ
  • হানিফা থেকে বর্ণনা করেছেন
  • তা বিরল বর্ণনা, যা রিওয়ায়াত
  • ও দিরায়াত উভয়েরই
  • পরিপন্থী অর্থাৎ সূত্রতঃ ও জ্ঞানত”
  • ঠিক নয়। (রাহরু রায়িক ১/৩১৫,
  • যাহরাতু রিয়অযুল আবরার, পৃ-৮৯)
  • ১২। দেওবন্দের শায়খুল হিন্দ
  • মাওলানা মাহমূদুল হাসান
  • বলেনঃ রফ’উল ইয়াদাইন মানসূখ নয়।
  • আর এর স্থায়িত্ব প্রমাণিত নয়-
  • (ইযাহুল আদিল্লাহ)।
  • ইতিপূর্বে ইমাম
  • যায়লায়ী হানাফীর বরাত
  • দিয়ে প্রমাণ করা হয়েছে যে, এর
  • স্থায়িত্ব প্রমাণিত।
  • কেননা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) মৃত্যু
  • পর্যন্ত আজীবন রাফ’উল ইয়াদাইন
  • করেছিলেন। (নাসবুর রায়াহ
  • তাখরীজ আহাদীসিল
  • হিদায়া ১/৪১০)
  • ১৩। মুফতী আমিমুল ইহসান
  • লিখেছেনঃ যারা রফ’উল
  • ইয়াদাইন করার হাদীস মানসূখ-
  • আমি বলি, তাদের একটি মাত্র
  • দলীল (অর্থাঃ ইবনু মাস’উদের
  • হাদীস), দ্বিতীয় কোন দলীল
  • নাই। (ফিকহুস সুনার ওয়াল আসার,
  • পৃ-৫৫)
  • ১৪। হানাফী মাযহাবের
  • ফিক্বাহ গ্রন্থাবলীতেও রাফ’উল
  • ইয়াদাইনের পক্ষে বক্তব্য
  • রয়েছে। তন্মধ্যকার
  • কয়েকটি উল্লেখ করা হলঃ(ক) রুকু’র
  • পূর্বে ও পরে রফ’উল ইয়াদাইন করার
  • হাদীস প্রমাণিত আছে। (আয়নুল
  • হিদায়া ১/৩৮৪, নুরুল হিদায়া)
  • (খ) রফ’উল ইয়াদাইন করার হাদীস,
  • রফ’উল ইয়াদাইন না করার
  • হাদীসের চাইতে শক্তিশালী ও
  • মজবুত। (আয়নুল হিদায়া ১/৩৮৯)
  • (গ) বায়হাক্বীর হাদীসে আছে,
  • ইবনু উমার বর্ণনা করেছেন,
  • রাসূলুল্লাহ (সাঃ) মৃত্যু পর্যন্ত
  • সালাতের মধ্যে রফ’উল ইয়াদাইন
  • করেছেন। (ইয়নুল হিদায়া ১/১৮৬)
  • (ঘ) রফ’উল ইয়াদাইন না করার
  • হাদীস দুর্বল। (নুরুল হিদায়া, ১০২)
  • (ঙ) রাসূলুল্লাহ (সাঃ) থেকে রফ’উল
  • ইয়াদাইন প্রমাণিত
  • আছে এবং এটাই হাক্ব। (আয়নুল
  • হিদায়অ ১/৩৮৬)
  • এবার সহীহ হাদীসের
  • আলোকে রফ’উল ইয়াদাইনের
  • কয়েকটি প্রসিদ্ধ হাদীস
  • বর্ণনা করা হলোঃ
  • (১) ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)
  • সুত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন,
  • আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)
  • কে দেখেছি, তিনি যখন
  • সালাতেস জন্য দাঁড়াতেন তখন
  • কাঁধ পর্য্ত দু’ হাত উঠাতেন,
  • এবং তিনি যখন রুকু’র জন্য তাকবীর
  • বলতেন তখনও এরূপ করতেন, আবার যখন
  • রুকু’ থেকে মাথা উঠাতেন তখনও এ
  • রকম করতেন
  • এবং সামিআল্লাহুলিমান
  • হামিদাহ বলতেন।
  • তবে তিনি সাজদাহর সময় এমন
  • করতেন না। (সহীহুল বুখারী, ৭৩৪,
  • ৭৩৫, মুসলিম, নাসায়ী, ইবনু
  • মাজাহ, আহমাদ, মুয়াত্তা মালিক,
  • মায়াত্তা মুহাম্মাদ, ত্বাহাভী,
  • বায়হাক্বী, তিরিমিযী)
  • (২) মালিক ইবনুল হুওয়াইরিস
  • (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ)
  • যখন সালাতের জন্য তাকবীর
  • দিতেন তখন কান পর্যন্ত দু’ হাত
  • উঠাতেন।
  • একইভাবে তিনি রুকু’তে যাওয়ার
  • সময় কান পর্যন্ত দু’ হাত উঠাতেন
  • এবং রুকু’ থেকে উঠার সময়ও কান
  • পর্যন্ত হাত উঠাতেন ও
  • সামিআল্লাহুলিমান হামিদাহ
  • বলতেন। (সহীহ মুসলিম হা/৩৯১,
  • সহীহ সুনানে ইবনে মাজাহ,
  • সহীহ আবূ দাউদ, ইরওয়অ ২/৬৭,
  • হাদীসটি সহীহ)
  • (৩) আলী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত।
  • তিনি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)
  • কে তাকবীরে তাহরীমাহর সময়,
  • রুকু’র সময়, রুকু’ হতে মাথা উঠানোর
  • সময় এবং দু’ রাক’আত শেষে তৃতীয়
  • রাক’আতে দাঁড়ানোর সময়ে রফ’উল
  • ইয়াদাইন করতে দেখেছেন।
  • (বায়হাক্বী ২/৮০, বুখারীর জুযউল
  • ক্বিরআত, আবূ দাউদ, ইবনে মাজাহ)
  • (৪) ওয়ায়িল ইবনু হুজর (রাঃ)
  • সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন,
  • আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর
  • সাথে সালাত আদায় করেছি।
  • তিনি তাকবীর দিয়ে সালাত
  • আরম্ভ করে দু’হাত উঁচু করলেন। অতঃপর
  • রুকু’ করার সময় এবং রুকু’র পরেও
  • দু’হাত উঁচু করলেন। (আহমাদ,
  • বুখারীর জুযউল ক্বিরাআত,
  • ইবনে মাজাহ, আবূ দাউদ)
  • (৫) মুহাম্মাদ ইবনু ‘আমর বলেন,
  • আমি নাবী (সাঃ) এর দশজন
  • সাহাবীর মধ্যে আবূ হুমাইদের
  • নিকট উপস্থিত ছিলাম, তাঁদের (আবূ
  • হুমাইদ, আবূ উসাইদ, সাহল ইবনু সা’দ,
  • মুহাম্মাদ ইবনু মাসলামাহ- (রাঃ)
  • প্রমুখ সাহাবীগণের) মধ্যে একজন
  • আবূ ক্বাতাদাহ ইবনু রবয়ী (রাঃ) ও
  • ছিলেন। তিনি বললেন,
  • আমি রসূলুল্লাহ (সাঃ) এর সালাত
  • সম্পর্কে আপনাদের
  • চাইতে বেশি অবগত।
  • তাঁরা বললেন, তা কিভাবে?
  • আল্লাহর শপথ! আপনি তো আমাদের
  • চেয়ে তাঁর অধিক নিকটবর্তী ও
  • অধিক অনুসরণকারী ছিণেন না।
  • তিনি বললেন,
  • বরং আমি তো তাঁকে পর্যবেক্ষন
  • করেছিলাম। তাঁরা বললেন, এবার
  • তাহলে উল্লেখ করুন। তিনি বললেন,
  • রসূলুল্লাহ (সাঃ) যখন
  • সালাতে দাঁড়াতেন তখন দু’হাত
  • উঁচু করতেন এবং যখন রুকু’ করতেন, রুকু’
  • থেকে মাথা উঠাতেন, এবং দু’
  • রাক’আত শেষে তৃতীয়
  • রাক’আতে দাঁড়াতেন তখনও দু’ হাত
  • উঁচু করতেন। এ
  • বর্ণনা শুনে তাঁরা সবাই বললেন,
  • আপনি সত্যই বলেছেন। (বুখারীর
  • জুযউল ক্বিরাআত, সহীহ ইবনু মাজাহ,
  • সহীহ আবূ দাউদ)
  • রফ’উল ইয়াদাইন সম্পর্কে বর্ণিত
  • হাদীস ও আসারের
  • সংখ্যা এবং সেসবের মান-
  • (ক) রফ’উল ইয়াদাইন সম্পর্কে বর্ণিত
  • সর্বমোট সহীহ হাদীস ও আসারের
  • সংখ্যা অনূ্যন ৪০০ শত। (সিফরুস
  • সাআদাত, পৃ-১৫)
  • (খ) ইমাম বুখারী (রহঃ) বলেন,
  • রফ’উল ইয়াদাইনের হাদীস সমূহের
  • সানাদের চেয়ে বিশুদ্ধতম
  • সানাদ আর নেই। (ফাতহুল
  • বারী ২/২৫৭)
  • (গ) হাদীসের অন্যতম ইমাম হাফিয
  • তাকীউদ্দিন সুবকী (রহঃ) বলেন,
  • সালাতের মধ্যে রফ’উল ইয়অদাইন
  • করার হাদীস এতো বেশী যে,
  • রফ’উল ইয়াদাইনের
  • হাদীসকে মুতাওয়াতির
  • বলা ছাড়া উপায় নেই। (সুবকীর
  • জুযউ রফ’উল ইয়াদাইন)
  • রফ’উল ইয়াদাইনের হাদীস
  • বর্ণনাকারী সাহাবীগণের
  • সংখ্যা-*** রুকু’তে যাওয়া ও রুকু’
  • হতে উঠার সময় রফ’উল ইয়অদাইন
  • করা সম্পর্কে চার খলীফাসহ প্রায়
  • ২৫ জন সাহাবী থেকে বর্ণিত
  • হাদীস সমূহ রয়েছে। (সালাতুর
  • রসূল (সাঃ), পৃষ্ঠা ৬৫, হাদীস
  • ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ
  • প্রকাশিত)
  • ***মুহাদ্দিস ইরাক্বী (রহঃ) তাঁর
  • ফাতহুল মুগীস গ্রন্থে বলেন,
  • আমি সালাতে রফ’উল ইয়াদাইনের
  • হাদীস প্রায় ৫০ জন
  • সাহাবা হতে একত্রিত করেছি।
  • তিনি তাকরীবুল আসানীদ ও
  • তাকরীবুল মাসানীদ
  • গ্রন্থে বলেন, জেনে রাখ!
  • সালাতে রফ’উল ইয়াদাইনের
  • হাদীস ৫০ জন
  • সাহাবায়ি কিরাম হতে বর্ণিত
  • হয়েছে। (ফাতহুল মুগীস ৪/৮,
  • কিতাবু তাকরীবুল আসানীদ ও
  • তাকরীবুল মাসানীদ প্র-১৮)
  • রাফ’উল ইয়াদাইনের গুরুত্ব ও
  • ফাযীলাত-
  • (১) মালিক বলেন, ইবনু ‘উমার
  • (রাঃ) কোন
  • ব্যক্তিকে সালাতে রুকু’র সময় ও রুকু’
  • থেকে উঠার সময় রফ’উল ইয়াদাইন
  • না করতে দেখলে তাকে ছোট
  • পাথর ছুঁড়ে মারতেন, যতক্ষন
  • না সে রফ’উল ইয়াদাইন করে।
  • (বুখারীর জুযউ রফ’উল ইয়াদইন,
  • আহমাদ, দারকুতনী-নাফি,
  • হতে সহীহ সানাদে)
  • (২) ‘উক্ববাহ ইবনু ‘আমির (রাঃ)
  • বলেন, যে ব্যক্তি রুকু’র সময় এবং রুকু’
  • থেকে মাথা উঠানোর সময় রফ’উল
  • ইয়াদাইন করে তার জন্য
  • রয়েছে প্রত্যেক ইশারার
  • বিনিময়ে দশটি নেকী।
  • (বায়হাক্বীর মা’রিফাত ১/২২৫,
  • মাসায়িলে আহমাদ, কানযুল
  • ‘উম্মাল)
  • (৩) ইবনু ‘উমার (রাঃ) বলেন, রফ’উল
  • ইয়াদাইন হচ্ছে সালাতের
  • সৌন্দর্য্যের একটি শোভা।
  • প্রত্যেক রফ’উল ইয়াদাইনের
  • বদলে দশটি করে নেকী রয়েছে,
  • অর্থাৎ প্রত্যেক আঙ্গুলের
  • বিনিময়ে রয়েছে একটি করে
  • নেকী।
  • (আল্লামা আইনী হানাফীর
  • ‘উমদাতুল ক্বারী ৫/২৭২)
  • এতে প্রমাণিত হয়, রফ’উল ইয়াদাইন
  • করার কারণে দু’ রাক’আত
  • সালাতে ৫০ আর চার রাক’আত
  • সালাতে ১০০টি নেকী বেশি
  • পাওয়া যায়। এ
  • হিসেবে প্রতিদিন পাঁচ
  • ওয়াক্তের ১৭ রাক’আত ফরয
  • সালাতে ৪৩০ নেকী,
  • একমাসে ১২,৯০০ নেকী আর এক
  • বছরে ১,৫৪,৮০০ নেকী শুধু রফ’উল
  • ইয়াদাইন করার জন্য বাড়তি যোগ
  • হচ্ছে। সুতরাং কোন
  • ব্যক্তি সালাতে রফ’উল ইয়াদাইন
  • করার কারণে ৩০ বছরে ৪৬,৪৪,০০০
  • নেকী আর ৬৫ বছরে ১,০০,৬২,০০০
  • নেকী বেশি পাচ্ছেন। এটা শুধু
  • পাঁচ ওয়াক্ত ফরয সালাতের
  • হিসাব এছাড়া সুন্নাত, নাফল,
  • বিতর, তাহাজ্জুত, তারাবীহ
  • প্রভৃতি সালাতে রফ’উল ইয়াদাইন
  • করার নেকী তো রয়েছেই। যা এ
  • হিসাব অনুপাতেই পাওয়া যাবে।
  • সুতরাং যারা ফারয, সুন্নাত,
  • নাফল প্রভৃতি সালাতে রফ’উল
  • ইয়াদাইন করেন
  • না তারা কতগুলো নেকী থেকে
  • বঞ্চিত হচ্ছেন
  • তা কি ভেবে দেখেছেন? অথচ
  • ক্বিয়ামাতের দিন হাশরের
  • ময়দানে মানুষ একটি নেকী কম
  • হওয়ার
  • কারনে জান্নাতে যেতে পারবে
  • না!
  • আমাদের মাযহাবের রফ’ইয়াদাইন
  • না করার
  • পক্ষে সবথেকে শক্তিশালী
  • হাদীস এবং তার তাত্বিক
  • পর্যালোচনাঃ
  • ****”আলক্বামাহ (রহঃ)
  • সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন,
  • ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) বলেন,
  • আমি কি তোমাদেরকে
  • রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর সালাত
  • কিরূপ ছিল তা শিক্ষা দেব না?
  • বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর
  • তিনি সালাত আদায় করলেন
  • এবং তাতে কেবল একবার হাত
  • উত্তোলন করলেন। (আবূ দাউদ,
  • তিরমিযী, নাসয়ী)
  • হাদীসটি ইমাম
  • তিরমিযী হাসান বলেছেন
  • এবং ইবনু হাযাম বলেছেন সহীহ।
  • পক্ষান্তরে অন্যান্য ইমামগণ
  • এটিকে দুর্বল আখ্যায়িত করেছেন।
  • যেমন ইমাম বুখারী, ইমাম আহমাদ
  • উবনু হাম্বাল, ইমাম নাববী, ইমাম
  • শাওকানী (রহঃ) প্রমূখ ইমামগণ
  • হাদীসটিকে দুর্বল বলেছেন। (আল-
  • মাজমু’আহ ফী আহাদীসিল মাওযু’আহ,
  • ২০ পৃঃ)
  • ইমাম ইবনু হিব্বান বলেন, রফ’উল
  • ইয়াদাইন না করার
  • পক্ষে কূফাবাসীদের এটিই
  • সবচেয়ে বড় দলীল হলেও এটিই
  • সবচেয়ে দুর্বলতম দলীল। কেননা এর
  • মধ্যে এমন সব বিষয়
  • রয়েছে যা একে বাতিল বলে গণ্য
  • করে। (নায়লুল আওত্বার ৩/১৪,
  • ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/১০৪, আওনুল মা’বুদ)
  • হাফিয ইবনু হাজার (রহঃ) ‘আত-
  • তালখীস’ গ্রন্থে বলেন, ইবনুল
  • মুবারক বলেছেন, হাদীসটি আমার
  • নিকট প্রমাণিত ও প্রতিষ্ঠিত নয়।
  • ইবনু আবূ হাতিম বলেন, এ
  • হাদীসটি ভুল ও ত্রুটিযুক্ত। ইমাম
  • আহমাদ ও তাঁর শায়খ ইয়াহইয়া ইবনু
  • আদাম বলেন, হাদীসটি দুর্বল।
  • ইমাম আবূ দাউদ বলেন,
  • হাদীসটি সহীহ নয়। ইমাম
  • দারকুতনী বলেন,
  • হাদীসটি প্রমাণিত নয়। ইমাম
  • বায়হাক্বী এবং ইমাম
  • দারিমী (রহঃ) ও
  • হাদীসটিকে দুর্বল বলে আখ্যায়িত
  • করেছেন। অন্যদিকে ইমাম
  • তিরমিযী হাসান বললেও
  • তিনি নিজেই আবার ‘আবদুল্লাহ
  • ইবনুল মুবারক (রহঃ) -এর সূত্রে উল্লেখ
  • করেছেন যে,
  • হাদীসটি প্রমাণিত নয়
  • এবং প্রতিষ্ঠিতও নয়। (আওনুল মা’বুদ,
  • নায়লুল আওত্বার, জামি আত-
  • তিরমিযী ও অন্যান্য)
  • আল্লামা শামসুল হাক্ব
  • ‘আযীমাবদী (রহঃ) বলেন,
  • তাকবীরে তাহরীমাহ ব্যতীত
  • অন্যত্র রফ’উল ইয়াদাইন না করার
  • পক্ষে এ হাদীসটি দলীল
  • হিসাবে পেশ করা হয়। কিন্তু
  • হাদীসটি দলীলযোগ্য নয়।
  • কেননা হাদীসটি দুর্বল ও
  • অপ্রমাণিত।
  • আল্লামা নাসিরুদ্দীন
  • আলবানী (রহঃ) বলেন,
  • নাবী (সাঃ) হতে ইবনু মাসউদের
  • সূত্র ছাড়া অন্য কোন
  • মাধ্যমে রফ’উল ইয়অদাইন
  • ছেড়ে দেয়ার ব্যাপারে সহীহ
  • সুন্নাহ সাব্যস্ত হয়নি। আর ইবনু
  • মাসউদের এ হাদীসটিকে সহীহ
  • মেনে নিলেও তা রফ’উল ইয়াদাইন
  • এর পক্ষে বর্ণিত সহীহ
  • হাদীসসমূহের বিপরীতে পেশ
  • করা যাবে না এবং ইবনু
  • মাসউদের এ হাদীসের উপর আমল
  • করা উচিত হবে না।
  • কেননা এটি না-বোধক আর
  • ঐগুলি হাঁ-বোধক।
  • ‘ইলমে হাদীসের
  • মূলনীতি অনুযায়ী হাঁ-বোধক
  • হাদীস না-বোধক হাদীসের উপর
  • অগ্রাধিকার যোগ্য।
  • মাযহাবী থিওরীতে বলা
  • হয়েছে, হানাফী ও অন্যদের
  • নিকট যখন হাঁ-সূচক ও না-সূচকের
  • সাথে দ্বন্দ্ব দেখা দিবে তখন
  • না-সূচকের উপর হাঁ-সূচক
  • অগ্রাধিকার পাবে। এরূপ
  • নীতি বলবৎ হয় যদি হা-সূচকের
  • পক্ষে একজনও হয় তবুও।
  • সুতরাং সেখানে বিরাট এক
  • জামা’আত হাঁ-সূচকের
  • পক্ষে সেখানে অন্য কোন প্রশ্নই
  • আসতে পারে না। যেমনটি এ
  • মাসআলার ক্ষেত্রে। সুতরাং দলীল
  • সাব্যস্ত হওয়ার পর
  • গোড়ামী না করাটাই
  • উচিত…………।(হাশিয়া মিশকাত;
  • আলবানী ১/১৫৪, ও যঈফাহ ৫৬৮)
  • ইমাম বায়হাক্বী, শায়খ আবূল
  • হাসান সিন্দী হানাফী ও
  • ফাক্বীহ আবূ বাকর ইবনু ইসহাক্ব
  • (রহঃ) প্রমূখগণ বলেনঃ বরং ইবনু
  • মাসউদ এমন কিছু বিষয়
  • ভুলে গেছেন
  • যে ব্যাপারে মুসলিমগণ মতভেদ
  • করেনি। যেমনঃ (১) তিনি সমস্ত
  • সাতাবায়ি কিরাম ও মুসলিম
  • উম্মাহর বিপরীতে সূরাহ নাস ও
  • সূরাহ ফালাক্বকে কুরআনের অংশ
  • মনে করতেন না। (২)
  • তিনি তাতবীক অর্থাৎ রুকু’র সময় দু’
  • হাঁটুর মাঝখানে দু’ হাত
  • জড়ো করে হাঁটু
  • দ্বারা চেপে রাখতে বলতেন।
  • অথচ এরূপ আমাল রহিত হয়ে যাওয়অ
  • এবং তা বর্জন করার উপর সকল
  • আলিমগণ যে একমত হয়েছেন তাও
  • তিনি ভুলে গেছেন। (৩) ইমামের
  • সাথে দু’ জন
  • মুক্তাদী হলে মুক্তাদীদ্বয়
  • কোথায় কিভাবে দাঁড়াবেন
  • তাও তিনি ভুলে গেছেন।
  • তিনি বলতেন, ইমামের বরাবর
  • দাঁড়াতে হবে। অথচ
  • এটা হাদীসের সম্পূর্ণ খেলাফ। (৪)
  • তিনি ভুলে গিয়েছিলেন বিধায়
  • এরূপ বলতেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ)
  • ঈদুল আযহার দিন ফাজরের সালাত
  • সঠিক সময়ে পড়তেন না বরং ঈদের
  • সালাতের পূর্বে পড়তেন। অথচ
  • এটা সমস্ত মুসলিম উম্মাহর বিরুদ্ধ
  • মত। এ ব্যাপারে সমস্ত আলিমগণের
  • ঐক্যমতের কথাও
  • তিনি ভুলে গেছেন। (৫)
  • তিনি ভুলে গেছেন নাবী (সাঃ)
  • ‘আরাফার ময়দানে কী নিয়মে দু’
  • ওয়াক্ত সালাত একত্রে আদায়
  • করেছেন। ((৬) তিনি সাজদাহর
  • সময় মাটিতে হাত
  • বিছিয়ে রাখতে বলতেন। অথচ
  • এটি হাদীসের পরিপন্থি হওয়ার
  • ব্যাপারে আলিমগণ মতভেদ
  • করেননি বরং একমত পোষন
  • করেছেন, তাও ইবনু মাসউদ
  • ভুলে গেচেন।
  • অতএব এ সমস্ত ভুল যাঁর হয়েছে, তাঁর
  • সালাতে রফ’উল ইয়াদাইন
  • না করা এবং সে বিষয়ে হাদীস
  • না জানা বা না বলাও ভুলের
  • অন্তর্ভূক্ত। এতে কোন সন্দেহ নেই।
  • তাছাড়া মুহাদ্দিসীনে
  • কিরামের নিকট এ কথা প্রসিদ্ধ
  • যে, ইবনু মাসউদের শেষ
  • বয়সে বার্ধক্যজনিত
  • কারনে স্মৃতি ভ্রম ঘটে।
  • সুতরাং রফ’উল ইয়াদাইন না করার
  • হাদীসটিও সে সবের অর্ন্তভূক্ত
  • হওয়া মোটেই অস্বাভাবিক নয়।
  • (মাওয়াহিবু লাতীফা ১/২৬০,
  • ইমাম বুখারীর জুযউ রাফ’উল
  • ইয়াদাইন, ইমাম যায়লায়ী,
  • হানাফীর নাসবুর রায়হ ৩৯৭-৪০১,
  • ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/১৩৪, শারহু
  • মুসনাদে ইমাম আবূ হানিফা ১৪১
  • পৃঃ, বালাগুল মুবীন ১/২২৯)
  • রফ’উল ইয়াদাইন না করার এই
  • হাদীস সম্পর্কে ইমাম আহমাদ ইবনুল
  • হাম্বাল (রহঃ),
  • আল্লামা সুয়ূতী (রহঃ), ইমাম ইবনু
  • তাইমিয়্যাহ (রহঃ) ও ইমাম
  • শাওকানী (রহঃ) বানোয়াট
  • (মাওযূ) বলেছেন। (তাসহীলূল
  • ক্বারী, আল-ফাওয়ায়িদুল মাওযু’আহ,
  • আল-লাআ-লিল মাসনু’আহ ফিল
  • আহাদীসিল মাওযু’আহ ২/১৯)
  • আলোচনা আর দীর্ঘ
  • করতে চাচ্ছি না। এমনিতেই
  • পাঠকগণ এতটুকু পড়বেন কি-
  • না সন্দেহ আছে। তার পরেও
  • আপনাদের অনুরোধ করব, পুরাটুকু
  • পড়তে। আমার শরীরে ১০২
  • ডিগ্রি জ্বর, তা সত্বেও লিখছি আর
  • আপনারা সুস্থ্য
  • শরীরে পড়তে পারবেন
  • না এটা কি হয়? আর সামন্য
  • আলোচনা করেই শেষ করছি।
  • দয়া করে অধৈর্য হবেন না।
  • রফ’উল ইয়াদাইনের পক্ষে জমহুর
  • মুহাদ্দিস, জমহুর ফাক্বীহ ও
  • মুজতাহিদ ইমামগণের অভিমত-
  • (০১) ইমাম মুখারী ও ইমাম
  • বায়হাক্বী (রহঃ)
  • বলেনঃ মাক্কাহ, মাদীনাহ,
  • হিজাজ, ইয়ামান, সিরিয়া,
  • ইরাক, বাসরাহ, খুরাসান
  • প্রভৃতি দেশের লোকেরা সকলেই
  • রুকু’তে যাওয়ার সময় এবং রুকু’
  • থেকে মাথা উঠানোর সময় রফ’উল
  • ইয়াদাইন করতেন। (বুখারীর জুযউল
  • ক্বিরআত)
  • অসংখ্য সহীহ হাদীস ও আসার
  • বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও
  • যারা রফ’উল ইয়াদাইন করেন
  • না তাদের বিরুদ্ধে ইমাম
  • বুখারী (রহঃ) ‘জুযউ রফউল ইয়াদাইন’
  • নামে একটি স্বতন্ত্র কিতাবই
  • রচনা করেছেন এবং সেখানে এর
  • পক্ষে ১৯৮টি দলীল
  • বর্ণনা করেছেন।
  • অনুরূপভাবে হাদীসের অন্যতম
  • হাফিয তাকীউদ্দিন সুবকী (রহঃ)
  • ও রফ’উল ইয়াদাইনের পক্ষে জুযউ
  • রফউল ইয়াদাইন’
  • নামে একখানা স্বতন্ত্র কিতাব
  • রচনা করেছেন।
  • সুতরাং মুহাদ্দিসগণের নিকট
  • রফ’উল ইয়াদাইন যে কত বড় গুরুত্বপূর্ণ
  • সুন্নাত তা সহজেই অনুমেয়।
  • (০২) ইমাম তিরমিযী (রহঃ), ইমাম
  • ইবনু হিব্বান (রহঃ), ইমাম
  • মুহাম্মাদ নাসর (রহঃ), ইমাম
  • বুখারীর উস্তাদ ইমাম ইবনুল
  • মাদীনী (রহঃ), ইবনু আবদুল বার
  • (রহঃ), শাহ ইসমাঈল শহীদ (রহঃ),
  • হাফিয ইবনুল কাইয়্যিম আল
  • জাওযী (রহঃ),
  • আল্লামা নাসিরুদ্দিন
  • আলবানী (রহঃ), শায়খ সালিহ আল-
  • উসাইমিন (রহঃ), স’উদী আরবের
  • প্রাক্তন গ্রান্ড মুফতী শায়খ ‘আবদুল
  • ‘আযীয বিন বায (রহঃ) প্রমূখ
  • মুহাদ্দিসগণ সকলেই রফ’উল
  • ইয়াদাইনের পক্ষে তাদের দলীল
  • সহ মতবাদ ব্যক্ত করেছেন।
  • আমরা বাংলাদেশের গুটিকতক
  • গরুখাওয়া মুসলমান সোয়াবের
  • আশায় মিলাদ, শবেবরাত, পীর
  • পুজা, উরুস, মাজারের উপর গম্বুজ
  • নির্মাণ, আজানের সময়
  • আঙ্গুলে চুম্বন, প্রত্যেক ফরয
  • নামাজের পর সম্মিলিত
  • মোনাজাত, খতমে খাজেগাঁ,
  • খতমে শবিনা, খতমে ইউনুস,
  • নামাযের পূর্বে মুখে নিয়্যাত
  • উচ্চারণ এসকল
  • বিষয়গুলো নিয়ে এতই
  • মেতে আছি অথচ নামাযের
  • মধ্যে এত বড় একটা আমল ‘রফে’উল
  • ইয়াদাইন’ কে কর্তন
  • করে একেবারে বিতাড়িত
  • করেছি। আর সকলকে বুঝাচ্ছি এটাও
  • ঠিক ওটাও ঠিক!!
  • আসুন আমরা হিংসা-বিদ্বেষ
  • ছেড়ে সঠিক আকিদার
  • মানদন্ডে নিজেদের
  • আমলকে পরিশুদ্ধ করার
  • চেষ্টা করি। আমীন…

No comments